বেঞ্জেমার হ্যাটট্রিক, পিএসজিকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ

 




সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে পিছিয়ে পড়েও করিম বেঞ্জেমার হ্যাটট্রিকে পিএসজিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লীগের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ।পিএসজির হয়ে গোল করেন ফরাসি স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপ্পে।এই জয়ে শেষ ১৬ এর লড়াইয়ে ৩-২ ব্যবধানে জিতলো লস ব্লাংকোসরা।

হারের পর মেসি-নেইমার-এমবাপ্পে ত্রয়ী। ছবিঃ প্ল্যান্টিক


বাংলাদেশ সময় রাত ২ টায় শুরু হয় ম্যাচটি।ক্যাসেমিরো ও মেন্ডি নিষেধাজ্ঞার কারণে না থাকায় ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে টনি ক্রুস ও লেফট ব্যাক নাচো ফার্নান্দেজকে শুরু করান কার্লো আনচেলত্তি। পিএসজির রামোসের অনুপস্থিতিতে তার জায়গায় খেলানো হয় কিমপেম্বেকে। শুরু থেকেই ভালো ফুটবলের আভাস দেয় দুই দলই। প্রথম কয়েক মিনিট রিয়াল মাদ্রিদের কাছ থেকে হাই প্রেসিং ফুটবল দেখা যায়। প্রতিপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা চালায় কার্লোর শিষ্যরা। তবে প্রথম ১০ মিনিটে ভালো সুযোগ পায় পিএসজি, ছন্নছাড়া ফুটবল খেলে ক্রুস-মদ্রিচরা। এমবাপ্পের নিচু করে নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন কর্তোয়া। একই রকম সুযোগ পেয়েছিলেন নেইমারও। শটে জোর না থাকায় সেটিও গ্লাভস বন্দি করে নেন বেলজিয়ান গোলকিপার থিবো কর্তোয়া। 

মেসির চিপ শট কর্তোয়াকে পরাস্ত করলেও জালে জড়ায় নি, হতাশাগ্রস্ত মেসি তাই ঘাসেই শুয়ে পড়লেন। ছবিঃ টুইটার


ম্যাচে ভিনিসিয়াস জুনিয়র বেশকিছু রান মেক করতে সক্ষম হয়। ১৫ মিনিটে তার বাড়ানো বল থেকে এসেন্সিওর শট ব্লক হয়। একের পর এক আক্রমনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের ২৬ মিনিটে বেঞ্জেমার বাঁকানো শট বার পোস্ট ঘেষে বেড়িয়ে যায়।প্রতি আক্রমনে ২৮ মিনিটে মেসির বাড়ানো থ্রু বল কার্ভাহাল ইন্টারশেপশন করে। যা বেরিয়ে গেলে নিশ্চিত গোল হতো, পিছনে নেইমার-এমবাপ্পেরা পুরো ফাঁকা ছিলো। ৩০ মিনিটে মেসি গোললাইন ঘেষে বল নিয়ে গিয়ে চিপশটে কর্তোয়াকে পরাস্ত করলেও বল জালে জড়ায় নি। বল ফাঁকায় নেইমারের কাছে পৌছানোর আগে ক্লিয়ার করেন কার্ভাহাল।

এমবাপ্পের গোলে এগিয়ে যায় পিএসজি, যা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। ছবিঃ টুইটার

ম্যাচের বয়স যখন ৩৪ মিনিট, নুনো মেন্ডেসের বাড়ানো বলে বার্নাব্যুকে স্তব্ধ করে দিয়ে গোল করে বসেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। যদিও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায় সে গোল। ৩৫ মিনিটে বেঞ্জেমার করা হেড ধরে ফেলেন পিএসজির ইতালিয়ান গোলকিপার জুয়ানলুইজি ডোনারুম্মা। ৩৭ মিনিটে আবার বেঞ্জেমার হেড, এবার গোলবারের সামান্য বাইরে দিয়ে বল বেরিয়ে যায়।

গোল করার মেসির সাথে উদযাপনরত এমবাপ্পে।  ছবিঃ টুইটার


৩৯ মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমনের প্রতি আক্রমনে নেইমারের বাড়ানো বলে গতি দিয়ে মিলিতাওকে পরা
স্ত করে আলাবার সামনে থেকে শট নিয়ে গোল পোস্টের বাম কোণা দিয়ে থিবো কর্তোয়াকে পরাস্ত করে পিএসজিকে এগিয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এরপরে খেলায় গতি বাড়লেও ১-০ গোলে এগিয়ে থাকে হাফ টাইমে যেতে সক্ষম হয় পিএসজি।

রিয়াল মাদ্রিদের সবচেয়ে সফল জুটি, দুইজন মিলে রিয়ালকে এগিয়ে রাখছেন এই সিজনে। ছবিঃ ফেইসবুক

২য় হাফের শুরু থেকে আক্রমন শুরু করে মাদ্রিদ। ৫৪ মিনিটে আবার আক্রমনের প্রতি আক্রমনে গোল করে বসেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে এবারও সেটি বাতিল অফসাইডে। ৫৫ মিনিটে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের শট ঠেকিয়ে দেন ডোনারুম্মা। ৫৬ মিনিটে এমবাপ্পে মিলিতাওকে পরাস্ত করতে পারলে আলাবাকে পারেন নি। আলাবার দুদার্ন্ত ট্যাকেলে এমবাপ্পের থেকে এই যাত্রায় রক্ষা পায় মাদ্রিদ। এ ট্যাকেল থেকে পড়ে গিয়ে এমবাপ্পে মুখ থেকে রক্ত ঝড়তে দেখা যায়। ৫৭ মিনিটে পুরো ম্যাচ জুড়ে মিস শট,মিস পাস করে নিজের ছায়ায় থাকা এসেন্সিওকে তুলে তার জায়গা তরুন ব্রাজিলিয়ান রদ্রিগোকে নামানো হয়। ইঞ্জুরী থেকে সদ্য ফেরা টনি ক্রুসের জায়গায় কামাভিংগাকে নামানো হয়।এরপর খেলার ধার বাড়তে থাকে মাদ্রিদের। ৬০ মিনিটে কার্ভাহাল এমবাপ্পে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন।

ভিনিসিয়াসের অ্যাসিস্ট থেকে বেঞ্জেমার গোলে সমতায় মাদ্রিদ। ছবিঃ রিয়াল মাদ্রিদ

ম্যাচের ৬১ মিনিটে বেঞ্জেমার প্রেসিংয়ের কাছে বল হারিয়ে বসেন ডোনারুম্মা।ফাঁকায় বল পেয়ে যান ভিনিসিয়াস জুনিয়র, গতিবিধি বুঝে বল বাড়ান বেঞ্জুর উদ্দেশ্যে।  ভুল করেন নি তিনি, জালে জড়িয়েছেন বল। এই গোলের সুবাদে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে মাদ্রিদ।


মাত্র ৩ মিনিটেই পিএসজিকে বিধ্বস্ত করেছেন করিম বেঞ্জেমা। ছবিঃ টুইটার

৬৩ মিনিটে বেঞ্জেমার হেড সামান্য বাইরে দিয়ে যায়।৬৬ মিনিটে আক্রমনের ধার বাড়াতে কার্ভাহালের জায়গায় লুকাস ভাস্কুয়েজকে নামানো হয়। পচেত্তিনোও বসে থাকে না, তিনি প্যারাদেসকে উঠিয়ে ইদ্রিসা গানা গুয়েকে নামান। ম্যাচের ৭৩ মিনিটে সবচেয়ে সহজ সুযোগ পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। গোলকিপারকে একা পেয়েও বারপোস্টের উপর দিয়ে মেরে দেন।

হ্যাটট্রিক করা বেঞ্জেমাকে জড়িয়ে ধরেন লুকা মদ্রিচ। ছবিঃ টুইটার

মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে পিএসজি শিবিরকে লন্ডভন্ড করে দেন করিম বেঞ্জেমা। ৭৫ মিনিটে ডিবক্সের ভেতর থেকে বল জালে জড়ান। ৭৮ মিনিটে মার্কুইনহোসের পাস বেঞ্জেমার পায়ে গেলে,সময় না নিয়ে গোলের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেন তিনি। সেই বল আটকাতে পারে নি ডোনারুম্মা। ফলে হ্যাটট্রিক আর প্রত্যাবর্তন হয়ে যায় করিম ও রিয়াল মাদ্রিদের।  বাকি সময়টুকুতে পিএসজি আক্রমন করার চেষ্টা করেছে কয়েকবার। সবগুলো ব্যর্থতায় পরিণত হয়েছে। ফলে জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখছে রিয়াল মাদ্রিদ।


দর্শকদের সঙ্গে জয উদযাপনে ব্যস্ত রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড়েরা। ছবিঃ ফেসবুক

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে পিএসজি এসেছিলো ঘরের মাঠের ১ গোলের লিড নিয়ে। হাফ টাইমের আগে সেটাকে ২-০ করতে সক্ষম হয়। কিন্তু নিজেদের ভুল আর করিম বেঞ্জেমার অতি দানবীয় পারফর্মেন্সের কাছে আরো একবার ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই থেকে হতাশা নিয়ে ফিরতে হচ্ছে প্যারিসীয়দের। এ হারে হয়তো তারা হারাবে তাদের একজন সেরা খেলোয়াড়কে। কাল এমবাপ্পে হয়তো মনস্থির করে ফেলেছেন তাকে এই সাদা জার্সি পড়তে হবে, মাদ্রিদ মাতাতে হবে!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ