বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজে সমতা আনলো দঃ আফ্রিকা

ট্রফি হাতে দুই অধিনায়ক। ছবিঃ সংগ্রহীত

জোহানেন্সবার্গে ২য় ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে দঃ আফ্রিকা। বাংলাদেশের দেওয়া ১৯৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা কেইল ভেরেইনা ও কুইন্টন ডি ককের হাফ সেঞ্চুরিতে ৩৭.২ ওভারেই টপকে যায় প্রোটিয়ারা।

দঃ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের ২য় ওয়ানডেতে টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন টাইগার অধিনায়ক তামিম ইকবাল। বাংলাদেশ  অপরিবর্তিত দল নিয়ে নামলেও প্রোটিয়ারা পরিবর্তন নিয়ে এসেছে তিনটি । দঃ আফ্রিকা এই ম্যাচের দলে ফিরিয়েছে উইকেটরক্ষক ব্যাটার কুইন্টন ডি কক, স্পিনার তাবারিজ শামসি ও অলরাউন্ডার ওয়াহিদ পার্নেলকে। বাদ পড়েছে,  মার্করাম, ফেথলুকাও ও মার্কো ইয়েনসেন।

শুরুর থেকে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের উপর চাপ সৃষ্ঠি করে আফ্রিকান পেসাররা। একের পর এক বাউন্সার করে নাস্তানাবুদ করেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। দলীয় ৭ রানের মাথায় এনগিদির বলে মহারাজের তালুবন্দি হয়ে ফিরেন  অধিনায়ক তামিম ইকবাল  খান। ১ রান যোগ হতে আউট হয়ে ফিরেন গত ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় সাকিব আল হাসান। রাবাদার বলে ক্যাচ তুলে শূন্য রানে মাঠ ছাড়েন সাকিব। ভালো ব্যাট করা লিটন বাউন্সার ছেড়ে দিতে গিয়ে গ্লাভস লাগিয়ে আউট হন। ২৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। রাবাদার বাউন্সারে আউট হন রাব্বিও। রাবাদার তিন শিকারের পর আঘাত হানেন পার্নেল। মুশফিককে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন এই পেসার। ১৩ তম ওভারে ৩৫ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে রাস্তা দেখান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ - আফিফ জুটি। ৬০ রানের জুটি গড়েন এই দুই ব্যাটসম্যান। ব্যক্তিগত ২৫ রানে তাবারিজ শামসির বলে আউট হয়ে ফিরেন রিয়াদ। অপর প্রান্ত আগলে রাখেন আফিফ।

৭২ রান করেন আফিফ। ছবিঃ টুইটার

মিরাজকে নিয়ে ৮৬ রানের পার্টনারশিপে বাংলাদেশকে লজ্জার হাত থেকে বাঁচান। তুলে নেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অর্ধ-শতক। রাবাদার বলে আউট হওয়ার আগে করেন ৭২ রান। আফিফের পর স্থায়ী হন নি মিরাজও। ১ বল পরেই আউট হয়েছেন তিনিও। মিরাজের  অবদান ৩৮ রান। শরিফুল আউট হয়েছেন ভান ডার ডুসেনের বলে। তাসকিন অপরাজিত ছিলেন ৯ রানে। বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৯৪ রান ৯ উইকেটের বিনিময়ে।

দঃ আফ্রিকার হয়ে ৫ উইকেট শিকার করেন কাগিসো রাবাদা।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকে বোলারদের উপর চড়াও  হন প্রোটিয়া উইকেটকিপার কুইন্টন ডি কক।মালান একপাশে ধীরস্থির খেললে অপরপ্রান্তে ডি কক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। ৮৬ রানে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বোল্ড হয়ে যাওয়ার আগে মালান করেন ২৬ রান। দলীয় ৮ রান যুক্ত হতে না হতে আউট হন ডি ককও। তার আগে তিনি ৪১ বলে ৬২ রানে মারকুটে ইনিংস উপহার দিয়ে যান। পরবর্তীতে ৮২ রানের জুটি বাঁধেন অধিনায়ক বাভুমা ও ভেরেইনা। বাভুমা ব্যক্তিগত ৩৭ রানে আউট হলে, ভেরেইনা অপরাজিত থাকে ৫৮ রানে।  ভান ডার ডুসেন অপরাজিত থাকেন ৮ রানে। ফলে দঃ আফ্রিকা ৭ উইকেটের একটি সহজ জয় তুলে নেয়।

এ জয়ে সিরিজে ১-১ এ সমতা আসলো। প্রথম ওয়ানডেটি বাংলাদেশ জিতে নিয়েছিলো ৩৮ রানে। তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেটি হবে সিরিজ নির্ধারণী।

উল্লেখ্য যে, সিরিজের শেষ ও তৃতীয় ওয়ানডেটি ২৩ শে মার্চ বিকেল ৫ টায় সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ