দঃ আফ্রিকাকে হারিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখলো বাংলাদেশ

চতুর্থ ওভারে মালানকে ফিরিয়ে উচ্ছ্বসিত টাইগারররা। ছবিঃ সংগ্রহীত


সেঞ্চুরিয়নে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে দঃ আফ্রিকাকে ৩৮ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। আইসিসি ওয়ানডে সুপার লীগ পয়েন্ট টেবিলে ১১০ পয়েন্ট শীর্ষস্থান আরো মজবুত করলো  টাইগাররা। ২য় স্থানে থাকা ইংল্যান্ডের চেয়ে ১৫ পয়েণ্টে এগিয়ে গেলো তামিম ইকবালরা।

প্রথমে ব্যাট করে দঃ আফ্রিকাকে ৩১৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা বেধে দেয় টাইগাররা। জবাবে ৪৮.৫ বলে ২৭৬ রানে অলআউট হয় প্রোটিয়ারা। নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দঃ আফ্রিকার মাটিতে কোন ম্যাচ জিতলো বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে ৬৪ বলে ৭৭ রান করায় ম্যাচসেরা হয়েছেন সাকিব আল হাসান।

টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দেখে শুনে করেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন কুমার দাস। ৯৫ রানের পার্টনারশিপ বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দেয়। ৬৭ বলে ৪১ রান করে ফিরেন তামিম ইকবাল। ৫০ করে কেশব মহারাজের বলে বোল্ড হয়ে ফিরেন লিটন কুমার দাস। অল্প রানের ব্যবধানে আউট হয়ে যান মুশফিকুর রহিম। তবে ইয়াসির আলীকে সঙ্গে নিয়ে আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের পসরা সাজান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।  নিজের ক্যারিয়ারের ২১৯ তম ম্যাচ খেলতে নামেন সাকিব আল হাসান,  ছাড়িয়ে যান মাশরাফি বিন মর্তুজাকে। সাকিব এখন বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ ওডিআই ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়। ইয়াসির আলীকে সঙ্গে নিয়ে ১১৫ রানের জুটি বাঁধেন সাকিব।

ক্যারিয়ারের ৫০তম ৫০। ছবিঃ ফেসবুক

নিজের ক্যারিয়ারের ৫০তম অর্ধ-শতক করতে মাত্র ৫০ বল লাগে সাকিব আল হাসানের। মিড উইকেটের উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে এই মাইলফলকে পৌঁছান তিনি। ফিফটির পর আরো দুদার্ন্ত ক্রিকেট খেলেন সাকিব। একদিকে সাকিব অপরদিকে ইয়াসির আলীর ব্যাট থেকে বাউন্ডারি আসতে থাকে।একটা সময় মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের রান হয়তো ৩৫০ হবে। ৪২তম ওভারে সাকিব যখন আউট হলেন তখন বাংলাদেশের রান ছিলো ২৩৯। 

ইয়াসিরের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি। ছবিঃ ফেসবুক

জুটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় নি ইয়াসির আলীর ইনিংস। নিজের প্রথম ফিফটি পাওয়ার পর আউট হয়ে গেছেন তিনি। দ্রুত দুই উইকেট পরে গেলেও বাংলাদেশকে ৩০০ রান করা থেকে আটকাতে পারে নি প্রোটিয়ারা। ছোট ছোট কার্যকরী ইনিংসে বাংলাদেশকে তিনশ পেরুতে সাহায্য করেছে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ,  আফিফ হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ। ১৭ বলে ২৫ রান করেন টি-২০ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। ১৩ বলে ১৭ রান করেন আফিফ,  ১৩ বলে ঝড়ো ১৯ রান করেন আরেক অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। 

দঃ আফ্রিকার হয়ে দুইটি করে উইকেট নিয়েছেন ইয়ানসেন ও মহারাজ।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে চর্তুথ ওভারে প্রথম উইকেট হারায় প্রোটিয়ারা। জানেমান মালানকে ব্যক্তিগত ৪ রানে মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসবন্দী করান শরিফুল ইসলাম। অধিনায়কের সাথে বড় জুটি গড়তে ব্যর্থ হয়  উইকেটরক্ষক কেইল ভেরেইনা। ব্যক্তিগত ২১ রানে তাসকিন আহমেদের বলে এলবিডব্লুর ফাঁদে পা দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেন তিনি। তাসকিনের ওই ওভারে কোন রান করে ফিরেন মাকরামও।

দিনের সবচেয়ে সফল দুই বোলার। ছবিঃ সংগ্রহীত

তবে বড় জুটি গড়তে সক্ষম হয় রসি ভান ডার ডুসেন। অধিনায়ক বাভুমাকে নিয়ে গড়েন ৮৫ রানের জুটি। ধীরগতিতে চলা রানরেট সচল করে এই জুটি। অধিনায়ক বাভুমাকে ফেরান শরিফুল ইসলাম। ব্যক্তিগত ৩১ রানে আউট হন প্রোটিয়া অধিনায়ক। ডেভিড মিলারকে সাথে নিয়ে আরেকটি বড় জুটি গড়েন ডুসেন। ৭০ রানের জুটিতে একসময় মনে হচ্ছিলো ম্যাচ জিতে তবে ফিরবেন দুই ব্যাটসম্যান। যদিও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে টিভি অ্যাম্পায়ার। ডুসেন রান আউট ছিলেন যেটি চেক না করে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। তাসকিনের বলে আউট হওয়ার আগে ৮৬ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন রসি।

দঃ আফ্রিকাকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন ভান ডার ডুসেন। ছবিঃ ফেসবুক


এই উইকেটের পর মিলার চেষ্টা করেন দলকে উদ্ধার করতে। একা একপাশ সামলিয়ে চেষ্টা করেন তিনি। শুরুর দিকে খারাপ বল করা মিরাজ শেষে এসে পরপর চারটি উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের জয়কে নিশ্চিত করে। কয়েক রানের ব্যবধানে ফেরান ফেথলুকাও, জানসেন, রাবাদা ও মিলারকে। স্ট্যাম্পিং হওয়ার আগে মিলার ৫৭ বলে ৭৯ রানের মারকুটে ইনিংস উপহার দিয়ে গেছেন। দশম   উইকেট জুটিতে কেশব মহারাজ ও লুঙ্গি এনগিদি ছোট ছোট ক্যামিও খেললেও শেষ রক্ষা হয় নি আফ্রিকার। মাহমুদুল্লাহর বলে এলবিডব্লু হওয়ার আগে ১৬ বলে ২৩ রান করেন মহারাজ। এনগিদি অপরাজিত থাকেন ১০ বলে ১৫ রান করে।

বাংলাদেশের হয়ে মেহেদী মিরাজ ৪ টি,  তাসকিন আহমেদ ৩ টি,  শরিফুল ইসলাম ২ টি ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ১ টি উইকেট নেন।

আগামী ২০ শে মার্চ জোহানেন্সবার্গে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২ টায় শুরু হবে সিরিজের ২য় ওয়ানডে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ